বড় জয়ে শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়ে শুরু মাশরাফিদের। ছবি: এএফপি 
জয় দিয়ে শুরু মাশরাফিদের। 

 শ্রীলঙ্কার কোনো মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ৩০০ তুলে কেউ হারেনি। ম্যাচ তো অর্ধেক পথেই শেষ!
শ্রীলঙ্কাকে নতুন ইতিহাস তৈরি করতেও দিল না বাংলাদেশ। ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারিয়ে মাশরাফিরা ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলেন জয় দিয়েই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের চারটি জয় ছিল উইকেটের ব্যবধানে। প্রথমবারের মতো রানের ব্যবধানে হারালেন মাশরাফিরা। ৪৫.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা।
৩২৫ রান তাড়া করতে নেমে স্কোরবোর্ডে কোনো রান না তুলতেই মাশরাফি বিন মুর্তজার করা প্রথম ওভারেই এলবিডব্লু গুনাথিলাকা। ঘুরে দাঁড়াবে কী, বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আরও চাপে শ্রীলঙ্কা। ১১ ওভারে ৩১ রানে নেই ৩ উইকেট। কেন দেশ থেকে কেন তাঁকে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে, বোঝালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কুশল মেন্ডিসকে (৪) আউট করেছেন। ফিরিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ইনিংসে একমাত্র ফিফটি পাওয়া দিনেশ চান্ডিমালকেও। ২৮.৫ ওভারে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সব সম্ভাবনা যেন শেষ করে দিল বাংলাদেশ। ১২১ রানে ৫ উইকেট নেই শ্রীলঙ্কার।
একটা সময় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন ছবি দেখা যেত। প্রতিপক্ষের দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারিয়ে পরে সম্মানজনক হারের জন্য খেলা। আজ শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে সেই ছবিটাই যেন ফুটে উঠল। ঝিমিয়ে পড়া ম্যাচটায় রোমাঞ্চ ছড়াল থিসারা পেরেরার ঝোড়ো ব্যাটিং। বিপিএলের সৌজন্যে বাংলাদেশের বোলারদের তাঁর ভালোই চেনা। সেটিই কাজে লাগালেন পেরেরা। আড়াই বছর পর পেলেন ওয়ানডে ফিফটি।
তাঁকে ফিরিয়েই ইনিংসের সমাপ্তি টানলেন মোস্তাফিজ। ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে এই বাঁ হাতিই দলের সেরা বোলার। মাশরাফি ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট সাকিব ও তাসকিনের।
এর আগে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে করে ৩২৪ রান। তাতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা নতুন করে লেখাল। শুরু থেকে একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলে তামিম ইকবালই রাখলেন মূল ভূমিকা। ১৪২ বলের ইনিংসটায় মেরেছেন ১৫টি চার, ছয় একটি। ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশকে দিয়ে গেছেন ৩০০-র গতিপথ। যে পথ ধরেই বাংলাদেশ পেয়েছে দুর্দান্ত এক জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩২৪/৫ (তামিম ১২৭, সাকিব ৭২, সাব্বির ৫৪, মোসাদ্দেক ২৪*, মাহমুদউল্লাহ ১৩*; লাকমাল ২/৪৫, গুনারত্নে ১/৪০, সান্দাকান ১/৪৩)।

শ্রীলঙ্কা: ৪৫.১ ওভারে ২৩৪ (চান্ডিমাল ৫৯, পেরেরা ৫৫, পাথিরানা ৩১, গুনারত্নে ২৪; মোস্তাফিজ ৩/৫৬, মাশরাফি ২/৩৫, মেহেদী ২/৪৩, সাকিব ১/৩৩, তাসকিন ১/৪১, মোসাদ্দেক ০/২১)।
ফল: বাংলাদেশ ৯০ রানে জয়ী।

ওয়েলিংটনের ‘ক্ষত’ নিয়ে আবার ক্রাইস্টচার্চে

           
 

ভূমিকম্পের শহর ক্রাইস্টচার্চে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। ফিরেছে নিজেরাই একটা বড় ‘ভূমিকম্পের’ শিকার হয়ে। কেন্দ্রস্থল ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ। আর মাত্রা? রিখটার স্কেলেরও সাধ্য নেই সেটি মাপার।
শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাহায্যে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সুব্রত। বয়স খুব বেশি না হলেও খুব মূল্যবান একটি কথা শোনা গেল বাংলাদেশের এই তরুণের মুখে। বাংলাদেশ দল ক্রাইস্টচার্চে ফিরেছে শুনে যিনি বলছিলেন, ‘রিক্ত হস্তে দেশে ফেরার জন্যই এল ওরা। নিউজিল্যান্ডে সবকিছুর অনেক দাম। এখান থেকে সহজে কেউ কিছু দেশে নিতে পারে না।’
আসলেই তো! নিউজিল্যান্ড সফরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন কী? ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে ঘাঁটাঘাটি না করাই ভালো। আর ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে যা কিছু অর্জন, সবই তো শেষ দিনের ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেল। বাংলাদেশ বয়ে বেড়াচ্ছে শুধু এই টেস্টের ক্ষত চিহ্নগুলো। মনে এবং খেলোয়াড়দের শরীরেও।
ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ দলের ঠিকানা এবার গ্লস্টার স্ট্রিটের রদেভুঁ হোটেল। ‘কেমন আছেন’ কথাটা এই হোটেলে শুধু সৌজন্য বিনিময়ের প্রশ্ন নয়। আক্ষরিক অর্থেই তা করা হচ্ছে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা জানার উদ্দেশ্যে। মুমিনুল হক হোটেল লবিতে নেমে আসামাত্র তাঁকে ঘিরে সাংবাদিকদের ভিড়। ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাউন্সার ছোবল দিয়েছে তাঁর গায়েও। ক্রাইস্টচার্চে এসেই কাল বুকের পাঁজরের যে এক্স-রেটা করালেন, সেটার রিপোর্ট কী? বাতাসে ঘুরে বেড়াতে থাকে আরও কত কৌতূহল। মুশফিকুর রহিম কেমন আছেন? দ্বিতীয় টেস্ট তাহলে সত্যি সত্যি খেলছেন না অধিনায়ক! আর ইমরুল কায়েস? বাঁ ঊরুর ব্যথা কতটা কমল তাঁর?
ফিজিও ডিন কনওয়ের সঙ্গে কথা বলে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম, ‘ক্রাইস্টচার্চে আসার পর ইমরুলের আলট্রাসাউন্ড করানো হয়েছে। ফিজিও জানিয়েছেন, তার ঊরুর পেশিতে ছোট একটি টিয়ার ধরা পড়েছে। ব্যথা আছে। ফিজিও তাকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। মুমিনুলের এক্স-রে রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। মাথায় আঘাতের কারণে মুশফিকের এমনিতে কোনো সমস্যা নেই। সে-ও পর্যবেক্ষণে আছে।’
দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিকের খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে আগের দিন জানিয়েছেন ফিজিও। রাবীদ ইমামের কথায়ও সে রকম ইঙ্গিত, ‘নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী মাথার চোটের পর তিন-চার সপ্তাহ খেলতে নিষেধ করা হয়। মুশফিকের ক্ষেত্রে কী হবে, সেটা টিম ম্যানেজমেন্ট ও তার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে আঙুলের চোটটাই এই মুহূর্তে বেশি দুশ্চিন্তার।’
মন আর শরীরের ক্ষতের সঙ্গে আরেকটি আলোচনাও এখন বাংলাদেশ দলের ছায়াসঙ্গী। প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে নাকি যে উইকেটে খেলা হয়েছে, তার পাশে একটি উইকেট বাদ দিয়ে পরের উইকেটে পানি দিয়েছেন মাঠকর্মীরা। চতুর্থ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সামনেই ঘটেছে এই ঘটনা। অথচ ম্যাচের আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, খেলার পাঁচ দিন ম্যাচের উইকেটের দুই পাশে অন্তত দুটি করে উইকেটে পানি দেওয়া যাবে না। কারণ, তাতে ম্যাচের উইকেটও ভিজে ওঠার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট সেদিনই বিষয়টি ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথকে জানালেও ক্রিস ব্রাউন দুঃখ প্রকাশ করায় ঘটনা আর বেশিদূর এগোয়নি।
বাংলাদেশ দলের কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ‘নো কমেন্ট’ বলে এড়িয়ে গেলেন। তবে ঢাকা থেকে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস মুঠোফোনে নিউজিল্যান্ড সিরিজ কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ ও ক্রিস ব্রাউনের সঙ্গে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের আলোচনা হয়েছে। ব্রাউন দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি অসাবধানতাবশত হয়ে গেছে। ক্রিকেটের চেতনার স্বার্থে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট সেটা মেনে নেয় এবং ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।’
এটা ঠিক যে ওয়েলিংটন টেস্টের পঞ্চম দিনে উইকেটের আচরণে ‘পানিবাহিত’ কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এদিনও একের পর এক বাউন্সার আর শর্ট বল দিয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা। নিল ওয়াগনারের বাউন্সার তো হাসপাতালেই পাঠাল মুশফিককে। তা ছাড়া ব্যাটসম্যানরা যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটার জন্য শুধু তাদের দায়িত্ববোধকেই দায়ী করা যায়। উইকেটকে নয়। বেসিন রিজার্ভের উইকেট কোনোভাবেই ব্যাটসম্যানদের আউটে প্রভাব ফেলেনি।
কিন্তু সব পক্ষ মিলে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিলে সেটি মানা হবে না কেন? বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট যদি পানি দেওয়াটাকে অন্যায়ই মনে করে, তাহলে একজনের দুঃখ প্রকাশে ঘটনা শেষ হয়ে যায় কীভাবে!

আশা জাগিয়ে হতাশার বৃত্তেই বাংলাদেশ

মাশরাফি শুরুতেই হেনেছিলেন আঘাত। ছবি: এএফপি৮ ওভারে ৮০ রান দরকার-খুব কঠিন কি? হাতে যখন ৬ উইকেট, আর খেলাটাও টি-টোয়েন্টি। ১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভালো মতোই ছুটছিল বাংলাদেশ। ১২ ওভারে তুলে ফেলেছিল ১১৬ রান। আশা জেগেছিল। কিন্তু জয়ের জাহাজটা হতাশার ডুবোচরেই আটকে গেল। ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে ৪৭ রানে ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। হেরে গেল সিরিজও। নিউজিল্যান্ড সফরে এটি টানা পঞ্চম হার মাশরাফির দলের।

কলিন মানরোর প্রথম সেঞ্চুরি ও টম ব্রুসের প্রথম ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। এই দুজন চতুর্থ উইকেটে ১২৩ রানের জুটিও গড়েছিলেন। চতুর্থ উইকেটেই সাব্বির-সৌম্য পাল্টা জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাব্বির পারলেন না ‘মানরো’ হতে। সৌম্যরও হওয়া হলো না ‘ব্রুস’। অথচ ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সৌম্য-সাব্বির ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন ৬৮ রানের জুটিতে।

সৌম্য ভালোই খেলছিলেন। মনে হচ্ছিল না কী ভীষণ চাপে আছেন ফর্মহীনতায়। কিন্তু ভালো খেলতে খেলতে তিন চার ও দুই ছক্কা ৩৯ করে হঠাৎ​ আউট হলেন বাজে বলে। ইনিংসের ১১তম ওভারে। তখনো বাংলাদেশের কাজ কঠিন হয়ে যায়নি। বরং ১২তম ওভারে ৮ রান তুলে বাংলাদেশ সমীকরণটা সহজ অঙ্কে নিয়ে এল। প্রতি ওভারে তুলতে হবে ১০ রান করে। এক-দুটি ব্যয়বহুল ওভার তুলে নিতে পারলে সমীকরণ হয়ে যাবে আরও সহজ।

আর সেই ‘ব্যয়বহুল’ ওভারের খোঁজেই যেন ভুল শট খেলার ঝুঁকিতে গেল বাংলাদেশ এরপর আর জুটিই গড়ে উঠল না। ৩ উইকেটে ১০৪ ছিল স্কোর। আর ৪৪ যোগ করতেই ফিরলেন বাকিরাও। শেষ ৪ উইকেটই পড়েছে ৪ রানের মধ্যে! ভুল শটের ভালো সাক্ষী থাকল স্কোরকার্ড। ৯ ব্যাটসম্যান দিয়েছেন ক্যাচ। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ৯ জনের ক্যাচ দেওয়ার অষ্টম উদাহরণ।

বাংলাদেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে ছিল। টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ১৭৪ কিংবা এর বেশি রান তুলে কখনো হারেনি নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশও কখনো ১৬৪-এর বেশি তাড়া করে জেতেনি। কিন্তু জেতেনি বলে কখনো জিতবে না, তাও তো নয়। সিরিজে টিকে থাকার এই ম্যাচে, বিদেশের মাটিতে ১৯৬ তাড়া করে জিততে পারলে মাশরাফির দলকে তা এনে দিন অন্য রকম আত্মবিশ্বাস। উল্টো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক হিসেবে যে অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এখন টানা হার দেখতে হচ্ছে মাশরাফিকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর নেতৃত্বে আগে কখনো টানা ৫ ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ।

ভুলটা মাশরাফিই করেছেন। এই উইকেটে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে। মাশরাফি অবশ্য প্রথম বলে উইকেট তুলে নিয়ে নিজের টস সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণই করতে চেয়েছেন। ৩৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডটা হলো।

বাংলাদেশের ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে ভালোমতোই অনুসরণ করছিল। বাংলাদেশও প্রথম ওভারে হারিয়েছে ইমরুল কায়েসকে। তামিম ও সাকিবকে হারিয়েছে পাওয়ার প্লের মধ্যে। চতুর্থ উইকেট জুটিটাও দারুণ হলো। এমনকি নিউজিল্যান্ডের মতো শেষের ওভারে পরপর উইকেটও পড়ল। কিন্তু এত মিলের মধ্যে যতটুকু অমিল, সেটাই গড়ে দিল ম্যাচের আসল পার্থক্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ১৯৫/৭ (মানরো ১০১, ব্রুস ৫৯*, উইলিয়ামসন ১২; রুবেল ৩/৩৭, মোসাদ্দেক ১/২২, সাকিব ১/৩২, মাশরাফি ১/৩৮)

বাংলাদেশ:
১৪৮ (তামিম ১৩, কায়েস ০, সাব্বির ৪৮, সাকিব ১, সৌম্য ৩৯, মাহমুদউল্লাহ ১৯, মোসাদ্দেক ১, নুরুল ১০, মাশরাফি ১, রুবেল ১, মোস্তাফিজুর ০*; সোধি ৩/৩৬, উইলিয়ামসন ২/১৬, স্যান্টনার ১/১৪, হুইলার ১/১৬, বোল্ট ১/২৮)

ফল:
নিউজিল্যান্ড ৪৭ রানে জয়ী।
মানরোর কাছে হারল বাংলাদেশ

গত ম্যাচে ‘জিরো’, এই আজ মানরো ‘হিরো’। ছবি: এএফপিকলিন মানরোকে প্রিয় প্রতিপক্ষ নিশ্চয়ই এখন বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেছেন এবারের সিরিজেরই প্রথম ম্যাচে। বে ওভালে আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে করে ফেললেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি।

ক্রাইস্টচার্চ, নেলসন আর নেপিয়ারে অল্প কিছু সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিই খেলা দেখতে এসেছিলেন মাঠে। সে তুলনায় মাউন্ট মঙ্গানুয়িতে লাল-সবুজের সমারোহ অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এই শহরের শ তিনেক প্রবাসী তো আছেনই, নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য অনেক শহর থেকেও অনেক বাংলাদেশি দর্শক আজ এসেছেন বে ওভালে। কিন্তু মানরোর সেঞ্চুরির সুবাদে নিউজিল্যান্ড ১৯৫ রান করে ফেলার পর মনটাই খারাপ হয়ে গেল ওয়েলিংটন থেকে আসা ব্যবসায়ী মাসুমের, ‘আজ তো অবস্থা খারাপ...।’

মাসুমের মতো আরও অনেক বাংলাদেশি দর্শককেই হতাশ করে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৪৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। তাতে এক ম্যাচ বাকি থাকতে নিশ্চিত হয়ে গেল সিরিজ হারও।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকে অবস্থা খারাপ হতে লাগল আরও। বে ওভালের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংস তাড়া করতে গিয়ে ৩৬ রানেই নেই তিন উইকেট! ইনিংসের চতুর্থ বলে বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের প্রথম শিকার ইমরুল কায়েস। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন মিড উইকেটে। চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে ফিরে যান আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।

সাব্বির রহমান আর সৌম্য সরকারের চতুর্থ উইকেট জুটি সেখান থেকেই আশা দেখাল বাংলাদেশকে। সাব্বির তো ফর্মে ছিলেনই, সৌম্যও হারানো ফর্ম ফিরে পাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখালেন। এই জুটি যতক্ষণ উইকেটে ছিল, ছিল আশাও। কিন্তু ২৬ বলে ৩৯ রান করে সৌম্য ফিরে যাওয়ার দুই ওভার পর সোধির বলে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন সাব্বিরও। ৩২ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে তিন ছক্কা আর তিন বাউন্ডারি সাব্বিরের। গ্র্যান্ডহোমকে প্রথম ছক্কাটি মেরেছেন দারুণ এক স্কুপ শটে। পরের দুটিই লং অন দিয়ে। একটি সোধিকে, অন্যটি ওই গ্র্যান্ডহোমকেই।

সৌম্যকে অনেক দিন পর দেখা যাচ্ছিল তাঁর আসল চেহারায়। ২৬ বলে ৩৯ রানের পুরো ইনিংসেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। সোধিকে ওয়াইড লং অন দিয়ে আর গ্র্যান্ডহোমকে লং অন দিয়ে মারা ছক্কা দুটি দেখে মনেই হয়নি এর আগে খেলা সিরিজের দুটি ওয়ানডেতে গতিজড়তায় ভুগেছে তাঁর ব্যাট। ট্রেন্ট বোল্টের স্লোয়ার শর্ট বলে করা হুকটা আরও নিখুঁত হলে বে ওভালে সৌম্য হয়তো আরও বড় কিছুই উপহার দিতেন আজ।

সাব্বিরের বিদায়ের পর হুড়মুড় করেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। ৩০ রানে শেষ ৬ উইকেটের পতন। যেন ব্যাটিং করতে নয়, নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের ক্যাচ প্র্যাকটিস করতেই নেমেছিলেন ব্যাটসম্যানরা! তামিম ইকবালের রান আউটটি ছাড়া বাংলাদেশ দলের বাকি সব ব্যাটসম্যানই আউট হয়েছেন ক্যাচ দিয়ে।

নিউজিল্যান্ড ইনিংসের পুরোটাই ছিল মানরোময়। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। আহমেদ শেহজাদ, রিচি বেরিংটন এবং ব্রেন্ডন ম্যাকালামের পর কাল মানরোও নাম লিখিয়েছেন সে তালিকায়। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর এই সেঞ্চুরির কথা সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে মাহমুদউল্লাহর। ইনিংসের নবম ও নিজের প্রথম ওভারে মাত্র চার রান দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৩তম ওভারে মাশরাফি আবারও তাঁকে বোলিংয়ে ফিরিয়ে যেন ভুলই করলেন। প্রথম, তৃতীয় ও শেষ বলে মানরোর ব্যাট থেকে এল তিন ছক্কা। মাঝে দুটি বাউন্ডারিসহ মাহমুদউল্লাহর ওই এক ওভারেই মানরো নিয়েছেন ২৮ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল ওভার।

৫৪ বলে ১০১ রানের ইনিংসে মানরোর ছক্কা আছে আরও চারটি, যার দুটিই মোসাদ্দেকের এক ওভারে।

গ্র্যান্ডহোম আর নিশামকে ফেরানোর পর পেসার রুবেল হোসেনের তৃতীয় শিকার মানরো। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ঝড়ও ওখানেই শেষ। এরপর ইনিংসের শেষ তিন ওভার চার বলে আর মাত্র ২৬ রানই যোগ করতে পেরেছে তারা।

তাতে কী? কলিন মানরোর একার কাছেই যে হেরে গেছে বাংলাদেশ!
কষ্টে পাওয়া জায়গা হারাতে চান না

Image may contain: one or more people and sunglasses

নেটে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেন এদিন একটু
পরের দিকেই। নেট সেশন শেষ করেই ছুটলেন
মাঠে। অনেকক্ষণ ধরে একাই একমনে
চালিয়ে গেলেন ফিটনেস ড্রিল। এরপর একটু
বিশ্রাম। খানিক পর আবার জিম; আরেকটু
ফিটনেস ট্রেনিং সাব্বির রাহমানকে
অনায়াসেই বলা যায় ‘ফিটনেস ফ্রিক’!


 

বরাবরই সাব্বির দলের সবচেয়ে ফিট ফিল্ডারদের
একজন। সেই ফিটনেস ধরে রাখার ব্যাপার আছে। তার
চেয়েও বেশি আছে নিত্য নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার
তাড়না। নিজের ক্যারিয়ার থেকেই সাব্বির শিখেছেন,
ফিটনেসই তাকে এগিয়ে নেবে প্রত্যাশিত চূড়া ছোঁয়ার
দিকে। তাই চারপাশে আর যত কিছুই হোক, নিজের
ফিটনেস ট্রেনিংয়ের সঙ্গে কখনোই আপোশ করেন না
এতটুকুও।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রায়ই বলেন,
সাব্বিরের মত ফিটনেস ফ্রিক বাংলাদেশের ক্রিকেটে
আর দেখেননি। দলের অনুশীলন বা ট্রেনারের বেঁধে
দেওয়া রুটিন তো আছেই, ফিটনেস নিয়ে আছে
সাব্বিরের নিজস্ব কিছু রুটিনও। খেলা না থাকলে বা
ছুটির দিনেও সেই রুটিনে ফাঁকি নেই একটুও। বছরের
প্রায় প্রতিটি দিনই নিয়ম করে ‘কোর’ করেন, ‘সিট আপ’
মারেন আর অন্তত দুশ ‘পুশ-আপ’

Comment
নিউজিল্যান্ডকে হারানোর যে ফর্মূলা দিলেন মাহমুদউল্লাহ

Image may contain: 1 person, playing a sport and text

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-
টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে বেশ
কোনঠাসা বাংলাদেশ।
জয়ের দেখা পেতে মরিয়া টাইগাররা।
ওয়ানডে সিরিজে দলের জন্য কোন অবদান
রাখতে পারেননি অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটম্যান
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
। তবে টি-টোয়েন্টি জ্বলে
উঠেছেন তিনি।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে
টাইগাররা বর্তমানে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে অবস্থান
করছেন। তিনি নিউজিল্যান্ডকে হারানোর কিছু ফর্মূলা
জানিয়েছেন।
ঘরের মাঠে নিজেদের পরিবেশে নিউজিল্যান্ড
সবসময় শক্তিশালী দল উল্লেখ করে মাহমুদউল্লাহ
বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে বেশ শক্তিশালী
দল। তারপরও যদি দলগত পারফরমেন্স করা যায় তবে
তাদের হারানো সম্ভব।’
সিরিজের প্রায় সব গুলো ম্যাচই জায়ের
কাছাকাছি গিয়ে হারতে হলো টাইগারদের।
রিয়াদের কন্ঠে ঝড়লো তারই আক্ষেপ, ‘প্রতি
ম্যাচেই আমরা জেতার সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু খুব
কাছে গিয়ে হেরে যাচ্ছি সুযোগগুলো
সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। সামনে
এমন সুযোগ পেলে আশা করছি সেটা কাজে
লাগাতে পারব।’

Comment

নারী ফুটবলে ইতিহাস গড়ার দিন আজ           

সাফ জিততে পারবে মেয়েরা? ছবি: বাফুফে।
শহরের শিবমন্দির সড়কের পাশেই হোটেল মোনার্ক। এখানেই উঠেছে সাফ টুর্নামেন্টে খেলতে আসা বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। দুপুরের খাবারের জন্য নিজেদের রুম থেকে বের হচ্ছিলেন গোলরক্ষক সাবিনা, মিডফিল্ডার সানজিদা, স্ট্রাইকার স্বপ্নারা। বেশির ভাগ মেয়েরই চুলে বেণি। ডাইনিংয়ে ঢুকতেই যেন একেকজন হয়ে উঠলেন চঞ্চলা প্রজাপতি। কেউ গাজরের টুকরো মুখে নিয়ে কামড় বসাচ্ছেন। কেউ মজার কোনো গল্প করছেন, অমনি একজন হেসে গড়িয়ে পড়ছেন আরেকজনের গায়ে।
শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অনেক কঠিন। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ভারত। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের পরাশক্তি। তবে শক্তিশালী ভারতের সামনে পড়েও বাংলাদেশের মেয়েরা নির্বিকার। নিরুদ্বেগ। ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যে জুজুর ভয়টা থাকত, সেটি যে এবার একেবারেই উধাও!
ভারতকে কখনোই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতার আগে ছয়টি সাক্ষাতে বাংলাদেশ কোনো প্রতিরোধের দেয়াল তুলতে পারেনি। হেরেছে সব ম্যাচ। ২০১০ কক্সবাজার সাফে ভারতের কাছে ৬-০ গোলের হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। একই বছরে ঢাকায় এসএ গেমসে হার ৭-০ ব্যবধানে। পরের বছর অলিম্পিক বাছাই ও কলম্বো সাফে ভারত ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। এরপর ২০১৪ ইসলামাবাদ সাফ ফুটবলে ভারত জেতে ৫-১ ব্যবধানে। গত বছর এসএ গেমসে শিলংয়েও ভারতের জয়ের ব্যবধান ছিল একই। অথচ সেই ভারতের সঙ্গে এবারের সাফের গ্রুপ পর্বে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ।
বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশ দলের পেছনে রয়েছে বয়সভিত্তিক মেয়েদের সাফল্যের গল্প। এবারের জাতীয় দল গড়াই হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আঞ্চলিক বাছাইয়ের চ্যাম্পিয়ন ১৫ ফুটবলারকে নিয়ে।
এই দল নিয়ে তাই যত ভয় ভারতের কোচ সাজিদ ইউসুফ দারের, ‘এমন বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে আমি কখনোই দেখিনি। যোগ্য দল হিসেবেই ওরা ফাইনালে উঠেছে। বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করছি।’
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জালে একটি গোলও ঢোকেনি। এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব গোলরক্ষক সাবিনা আক্তারের। গোলপোস্টের নিচে যেন অতন্দ্রপ্রহরী যশোরের এই মেয়ে।
গ্রুপ পর্বে ভারতের সঙ্গে দুর্দান্ত খেলেছিলেন সাবিনা। আজও কি তেমনই দেখা যাবে? প্রশ্নটা করতেই সাবিনার আত্মবিশ্বাসী উত্তর, ‘গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে যে সেভ গুলো করেছি, ওটা নিয়ে এখন আর ভাবছি না। ওটা এখন অতীত। এটা ফাইনাল, নতুন ম্যাচ। আগের সবকিছু ভুলে নতুন করে শুরু করব।’ টুর্নামেন্টে একাধিকবার পোস্ট আগলে রাখার পাশাপাশি জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে ডিফেন্ডারদের মতো বল ক্লিয়ার করেছেন।
প্রশংসার দাবি রাখেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররাও। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এই মেয়েরা রক্ষণটাকে বানিয়ে রেখেছেন ‘চীনের প্রাচীর’। কাল সংবাদ সম্মেলনে কোচ গোলাম রব্বানীর মুখেও ঝরল সেই প্রশংসা, ‘এখানে যে ছয়জন ডিফেন্ডার নিয়ে এসেছি, ওদের সবাই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। ওদের নিয়ে একটা শঙ্কা ছিল আমার মনে। কিন্তু এখানে ওরা আমার সেই শঙ্কাটা উড়িয়ে দিয়েছে।’
কোচকে আশার গান শোনাচ্ছেন সাবিনা, কৃষ্ণা, স্বপ্নারা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১২টি গোল করা সাবিত্রা ভান্ডারির দল নেপালকে সেমিফাইনালে হারিয়েছে ভারত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭ গোল) বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন। সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছেন স্বপ্নাও। ভালো কিছু করার সামর্থ্য এই দলের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ, হল্যান্ড-ডেনমার্কপ্রবাসী ফুটবলার নিয়ে টুর্নামেন্টে আসা আফগানিস্তানকে গ্রুপ থেকে বিদায় করেছে বাংলাদেশ। ভারতে আসার আগে মালদ্বীপের মেয়েরা দুবাইয়ে ক্যাম্প করেছে, জাপানি কোচ তাদের দুই বছর ধরে অনুশীলন করিয়েছেন। কিন্তু সেই মালদ্বীপকেও সেমিফাইনালে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
এই টুর্নামেন্টটা হতে পারে সাবিনা-স্বপ্নারও। বাংলাদেশের এ পর্যন্ত করা ১২টি গোলের ১১টিই এই দুজনের। দুজনই করেছেন হ্যাটট্রিক। আজ সন্ধ্যায়ও এই জুটি জ্বলে উঠলে ১৪ বছর পর হয়তো সাফের ট্রফি আবারও আসতে পারে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ : সাবিনা আক্তার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাইনু মারমা, জাহান মৌসুমি, সিরাত জাহান স্বপ্না, সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানি সরকার, মারিয়া মান্দা।